নিরাপত্তার কারণে অনুমতি আটকে যাওয়ার এক দিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত বদলাল দিল্লি পুলিশ। আগামী ৩০ অক্টোবর জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে দিলজিৎ দোসাঞ্জের কনসার্টে মিলল ছাড়পত্র। তবে গান-বাজনার পাশাপাশি নজর থাকবে নিরাপত্তাতেও। ভিড় সামলাতে দেড় থেকে দু’হাজার বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী, স্টেডিয়ামের চারপাশে ৫০০ থেকে ৭০০ মিটার জুড়ে গাড়িমুক্ত এলাকা—সব মিলিয়ে বড়সড় প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর আয়োজকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পুলিশ। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল, পার্কিং এবং নিরাপত্তার বন্দোবস্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরেই কাটে অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা।

প্রথমে মাত্র ৪০০ জন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন আয়োজকেরা। কিন্তু পুলিশের মতে, এত বড় অনুষ্ঠানের জন্য তা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন অন্তত দেড় থেকে দু’হাজার রক্ষী। দর্শকদের সারি নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট প্রবেশপথে পৌঁছে দেওয়া, সহায়তাকেন্দ্র পরিচালনা এবং স্টেডিয়ামের ভিতরে-বাইরে মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব সামলাবেন তাঁরাই।

এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য, আয়োজকদের প্রাথমিক নিরাপত্তার বন্দোবস্ত পুলিশের চাহিদা পূরণ করতে পারেনি বলেই প্রথমে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তার উপর উৎসবের মরসুমে রাজধানীর বাজারগুলিতে ভিড় বাড়ায় পুলিশকর্মীদের উপরেও চাপ বেশি। অনুষ্ঠান পিছিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব উঠলেও দিলজিতের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচির কারণে তা সম্ভব হয়নি। বাড়তি বেসরকারি রক্ষী মোতায়েন করা হলে পুলিশের উপর চাপ কিছুটা কমবে বলেই মনে করছেন আধিকারিকেরা।

গাড়ি নয়, ভরসা পায়ে!

কনসার্টের দিন যানজট সামলাতে স্টেডিয়ামের চারপাশে ৫০০ থেকে ৭০০ মিটার এলাকা ‘নো-কার জোন’ করার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের। অর্থাৎ, এই এলাকায় সাধারণ দর্শকদের ব্যক্তিগত গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হবে না। শুধু শিল্পীর গাড়ি এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত অনুমোদিত যানবাহনই প্রবেশ করতে পারবে। ব্যক্তিগত গাড়িতে আসতে চাওয়া দর্শকদের জন্য সংলগ্ন পার্কিংয়ের জায়গা আগাম বুক করার ব্যবস্থা রাখতে বলা হয়েছে আয়োজকদের।

স্টেডিয়ামে যাতায়াতের জন্য নির্দিষ্ট হাঁটার পথ এবং গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সহায়তাকেন্দ্র রাখারও সুপারিশ করেছে পুলিশ। উদ্দেশ্য, ঢোকা ও বেরোনোর ব্যস্ত সময়ে দর্শকেরা যাতে ভুল গেটের সামনে গিয়ে ভিড় না জমান। কোন পথে গেলে নির্দিষ্ট প্রবেশপথে পৌঁছনো যাবে, তা বুঝতে সমস্যা হলে সহায়তাকেন্দ্র থেকে মিলবে প্রয়োজনীয় নির্দেশ।

স্টেডিয়ামটির ধারণক্ষমতা প্রায় ৫৫ হাজার। দর্শকদের পাশাপাশি অনুষ্ঠান পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কর্মী ও সহযোগীরাও থাকবেন। তাই প্রবেশপথ, বহির্গমনপথ এবং সংযোগকারী রাস্তায় পর্যাপ্ত কর্মী মোতায়েনের উপর জোর দিচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে, দর্শকদের আরও কাছে পৌঁছতে মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত র‌্যাম্পের দৈর্ঘ্য বাড়ানোর কথা ভাবছেন আয়োজকেরা। তবে নিরাপত্তা যাচাই ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পরেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

হুমকির ছায়াও থাকছে

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পিছনে রয়েছে হুমকির অভিযোগও। পুলিশ আধিকারিকদের বক্তব্য অনুযায়ী, খলিস্তানপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর কাছ থেকে হুমকি পাওয়ার কথা পুলিশকে জানিয়েছিলেন দিলজিৎ। বৃহস্পতিবার টিকিট বিক্রির সহযোগী সংস্থা বুকমাইশোকে পাঠানো চিঠিতেও সম্ভাব্য হুমকির প্রসঙ্গ ছিল। শিল্পী ও দর্শকদের নিরাপত্তার পরিকল্পনা তৈরির সময় বিষয়টি মাথায় রাখা হচ্ছে।

এদিকে, আগামী ২৭ নভেম্বর মুম্বইয়ের মহালক্ষ্মী রেসকোর্সে দিলজিতের কনসার্টে আত্মঘাতী হামলার হুমকি দিয়ে একটি ইমেল আসার পর শুক্রবার তদন্ত শুরু করেছে মুম্বই পুলিশ। চলতি বছরের মে মাসে হরিয়ানার করনালে দিলজিতের ম্যানেজার গুরপ্রতাপ সিংহ কাংয়ের বাড়ির বাইরে গুলি চলেছিল। সেই ঘটনার দায় লরেন্স বিষ্ণোই গোষ্ঠী সমাজমাধ্যমে স্বীকার করেছিল বলে অভিযোগ।

দিল্লি থেকেই শুরু ‘অরা’

দিল্লির অনুষ্ঠান দিয়েই শুরু হচ্ছে দিলজিতের ‘অরা ইন্ডিয়া ট্যুর’। এর পর ইনদওর, আমদাবাদ, মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও চণ্ডীগড়েও অনুষ্ঠান করার কথা রয়েছে তাঁর। ২০২৪ সালের অক্টোবরেও জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে পরপর দু’দিন গান গেয়েছিলেন দিলজিৎ। প্রথম দিনের টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়ার পর দর্শকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান যোগ করা হয়েছিল।

এ বারও দিল্লির কনসার্ট ঘিরে অনুরাগীদের মধ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে। ছাড়পত্র পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রাম লাইভে দিলজিৎ জানিয়েছেন, নির্ধারিত দিনেই দিল্লিতে আসছেন তিনি। অনুষ্ঠান নিয়ে তথ্য যাচাই না করে সমাজমাধ্যমে মন্তব্য করা এবং টেলিভিশনে বিতর্ক চালানোরও সমালোচনা করেন শিল্পী। অনুরাগীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা স্পষ্ট—৩০ অক্টোবর দিল্লিতেই দেখা হবে।